• শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১১:১৪ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
ব্রেকিং নিউজঃ
বাগমারায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল দুর্গাপুরের দুই যুবকের পঞ্চগড়ে করোনা সংক্রামণ ও প্রতিরোধ কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রহনপুরে ভারতীয় হনুমানের কামড়ে আহত ১ নাচোলে ধান কাটতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ শ্রমিক,আহত ১০ জয়নগরবাসীর সাথে চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ ফিরোজ আহমেদের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদের আশাশুনি উপজেলা শাখার কমিটি গঠন মধুপুরের বহুল আলোচিত পুলিদা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ৪১দিন পর গ্রেফতার পঞ্চগড়ের বোদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু নড়াইলে ঈদ ভ্রমণে গিয়ে নসিমন দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩ পঞ্চগড়ে সিএনজি মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন আহত
নোটিশঃ
যুগান্তর টাইমস - এ সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...




পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ইউপি সদস্যকে মারধর,চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৭ ইউপি সদস্যদের অভিযোগ

একেএম বজলুর রহমান,পঞ্চগড় প্রতিনিধি / ৯৬৮ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০




পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

মারধর করেন চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র রায়,তার ছেলে ও বডিগার্ড কানাই চন্দ্র সেন।
অনিল চন্দ্র রায় ১০নং চেংঠী হাজরাডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
মারধরের শিকার ঐ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের নাম শহিদুল ইসলাম। সে ১০নং চেংঠী হাজরাডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য। হাজরাডাংগা এলাকার তোয়াজ আলী খার ছেলে।

জানা যায়, চেংঠী হাজরাডাংগা ইউনিয়নের ডাটুয়া বাজারে
সবজির মার্কেট নির্মাণের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এলজিএসপি -৩ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। তা বাস্তবায়ন করা হয় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে।
প্রকল্পের চেয়ারম্যান হলেন ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা বিষয়া রানী আর প্রকল্পের সচিব হলেন ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, গত ২৫ জুলাই রাতে চেয়ারম্যান রাতে ফোন করে বলেন পরিষদে মিটিং আছে।
পরে পরিষদের ভিতরে সব সদস্যদের উপস্থিতিতে আলোচনা চলছিল। মিটিং চলাকালীন সময় চেয়ারম্যান আমাকে রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করতে বলেন।
আমার ওয়ার্ডের মধ্যে প্রকল্পের কাজ চলছিল।
প্রকল্পের কাজ আমাদেরকে না দিয়ে চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র রায় নিজেই করেন। কাজ শেষে বিল উওোলনের রেজুলেশন খাতায় আমাকে স্বাক্ষর করতে বলেন।

কাজ সম্পর্কে আমি কোন কিছু না জানিনা এবং কাজ নিম্ন মানের হওয়ায় আমি স্বাক্ষর করতে রাজি হইনি। এতে তারা খিপ্ত হয়ে আমার উপর হামলা চালায়।

চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র রায় তার ছেলে মানিক চন্দ্র রায়, তার দেহরক্ষী কিসামত বাগদহ গ্রামের গোবিন্দ সেনের ছেলে কানাই চন্দ্র সেনকে নিয়ে আমার উপর হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করে দেবীগন্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসা শেষে আমাকে ২৯ জুলাই ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০১৬-১৭ ও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা উওোলন কালীন সময় ২শ ৫ জন সুবিধা ভোগীদের থেকে চেয়ারম্যান ৫হাজার থেকে ৭হাজার টাকা করে প্রায় ৪থেকে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এবারো বিধবা,বয়স্ক,প্রতিবন্ধীদের নিকট থেকে ৫শ টাকা করে প্রায় ১লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এসবের প্রতিবাদ করার কারনে আজকে আমার এ অবস্থা।

আমি সুস্থ হয়ে ২৯ জুলাই দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করতে যাই।
কিন্তু দেবীগন্জ থানা পুলিশ অঙ্গাত কারনে তার মামলা নেয়নি।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল হাসান সরকার বলেন,

চেংঠী হাজরাডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ ইউপি সদস্য দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে তারা জানান,চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র রায় তার ব্যক্তিগত ভাবে বানানো নতুনহাটে একটি ঘরকে ভাড়া নিয়ে সেখানে তিনি গ্রাম আদালত পরিচালনা করতো।
সেখানেই তিনি যাবতীয় মিটিংসহ সব ধরনের কার্যাদি সম্পন্ন করতো। ঐ মিটিংয়ে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামকে রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করতে বলেন কিন্তু শহিদুল ইসলাম তাতে স্বাক্ষর না করার কারনে চেয়ারম্যান, তার ছেলে ও বডিগার্ড কানাই চন্দ্র সেন লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে মারপিট করে। তারা অভিযোগে আরও জানান, আমরা আমাদের মাসিক সম্মানি চাইলে এবং কোন কাজের কথা বললে আমাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতো।
তারা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চান।

অভিযোগকারীরা হলেন ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম, চন্দ্র মোহন,বেলাল হোসেন খান,রবিউল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, শহিদুল ইসলাম (ভিকটিম) ও লিপিয়ারা বেগম।

কিন্তু উপজেলা প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান বলেন,

চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র রায়ের বক্তব্য জানার জন্য তার পরিষদে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহুত মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়ার পর ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মারধরের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি মোবাইল কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।

ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামকে মারধরের প্রতিবাদে গত ২৭ জুলাই চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের জনসাধারণ ডাটুয়া বাজারে মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র রায় একজন দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান। সে যাত্রাদলের মাষ্টার ছিল। শুরু থেকেই তার আচরণ ভালো ছিলনা। চেয়ারম্যান ও তার ছেলে মানিক চন্দ্র রায় তার দেহরক্ষী কানাই চন্দ্র সেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!