• রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English
ব্রেকিং নিউজঃ
গোমস্তাপুরে চৌডালায় পতিতালয়ে অভিযান, গ্রেপ্তার ৫ আশাশুনিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ঠাকুরগাঁওয়ের ধর্ষন মামলার আসামী সাইফুল গ্রেফতার খাগড়াছড়ি মহালছড়ি মাইসছড়ি ইউনিয়নে অত্যন্ত দুর্গম এলাকার স্কুলে বিভিন্ন আসবাব পত্র বিতরন কমলগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বিতরন রতনকান্দি একডালা ইইছামতি নদীতে এলাকা বাসির দাবি একটি ব্রিজের কুড়িগ্রামে মৎস্য বিভাগে ৩৮ হেক্টর পুকুর-জলাশয় পুনঃখনন নওগাঁয় শামীম জেন্টস বিউটি পার্লার হেয়ার কাটিং সেলুন শুভ উদ্বোধন বানারীপাড়ায় সাবেক নারী ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে গাছপালাসহ পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ গোমস্তাপুরে সাংবাদিকের মাতার ইন্তেকাল
নোটিশঃ
যুগান্তর টাইমস - এ সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...




পঞ্চগড়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আছিয়াকে আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে হবেনা

একেএম বজলুর রহমান,পঞ্চগড় প্রতিনিধি / ৭৬ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, ৩ মে, ২০২১




দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আছিয়া খাতুন (২২)। থাকেন ভাড়া বাসায়, করতেন ভিক্ষাবৃত্তি। দিনের বেশি সময় তাকে পাওয়া যেত পঞ্চগড় শহরের কদমতলার উত্তরা ব্যাংকের সামনে। সেখানকার আশপাশের লোকজনের বেশ পরিচিত তিনি। কারণ, প্রতিদিন সেখানেই তিনি চার বছর বয়সি সন্তান জান্নাতুনকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। এখনো সেখানেই পাওয়া যাবে তাকে। তবে ভিক্ষাবৃত্তিতে নয়, এখন থেকে তিনি মাস্ক বিক্রি করবেন আর ওজন মাপার যন্ত্র দিয়ে উপার্জন করবেন।
রোববার দুপুরে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর পক্ষ হতে একটি ওজন মাপার যন্ত্র এবং বেশ কিছু মাস্ক দিয়ে তার এই স্থায়ী উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেন জেলা পুলিশের মিডিয়াসেলের দায়িত্বরত এটিএসআই শেখ মোস্তাফিজুর রহমান।
এর আগে, গত ২৭ এপ্রিল অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘হাতে জাল নোট ধরিয়ে দিয়ে অন্ধ ভিক্ষুকের টাকা নিয়ে উধাও’ শিরোনামে আছিয়াকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সেখানে জানানো হয়- ‘ওই দিন এক অচেনা মানুষ এসে আছিয়াকে ৪০ টাকা দান করার কথা বলে ৬০ টাকা ফেরত নিয়ে তার হাতে একটি একশ টাকার জাল নোট ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন। আছিয়ার কাছে নোটটা মোটা মনে হওয়ায় তিনি আশপাশের মানুষদের দেখতে বলেন। তারা জানান এটা জাল নোট। জাল নোটের কথা শুনে কাঁদতে শুরু করেন আছিয়া।’
সংবাদটি নজরে আসে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর। তিনি খোঁজ নিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। একই সাথে আছিয়াকে যেন আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে না হয় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেন।
জানা গেছে, আছিয়া পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের সিঅ্যান্ডবি মোড় এলাকায় চার বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে জান্নাতুনকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। ভিক্ষাবৃত্তি করেই চলতো তার জীবন। তার বাবার বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার তেরো মাইল বাকপুর এলাকায়। জন্ম থেকেই তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। কয়েক বছর আগে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট এলাকার ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে আছিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। স্বামীর ঘরে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী। স্বামী দেখভাল না করায় তিনি একমাত্র মেয়ে জান্নাতুনকে সঙ্গে নিয়ে সারাদিন ভিক্ষাবৃত্তি করে যা পান তা দিয়ে চলে তাদের জীবন।
এদিকে, ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে মাস্ক বিক্রি আর ওজন মাপার যন্ত্রে বেশি উপার্জন বলে বেশ খুশি আছিয়া। যেখানে হাত পেতে দুই টাকা ভিক্ষা পাওয়া যেতনা সেখানে পথচারিরা ওজন মাপার বিনিময়ে পাঁচ থেকে ১০ টাকা দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
এটিএসআই শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পঞ্চগড় জেলা পুলিশ এবং পুলিশ সুপার
মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মানবিক বিষয়ে সবসময় সক্রিয়। এধরণের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!